Showing posts with label লেখালেখি. Show all posts
Showing posts with label লেখালেখি. Show all posts

Thursday, January 23, 2014

এখনো শেখার বাকি দেশপ্রেমের প্রথম পাঠ

ঘটনা ...
নিউ ইয়র্কের ভারতীয় কনসুলেটের ডেপুটি কন্সাল জেনারেল দেবযানীকে ভিসা আবেদনে ভারতীয় গৃহকর্মীর বিষয়ে ভুয়া তথ্য দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। মেয়েকে স্কুলে নামিয়ে দেয়ার সময় রাস্তা থেকেই দেবযানীকে গ্রেপ্তার করে প্রকাশ্যে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দেয়া হয়। ভারতের দাবি ওই কূটনীতিককে বিবস্ত্র করে তার দেহে তল্লাশি চালানোর পর তাকে মাদক চোরাচালানী ও যৌনকর্মীদের সঙ্গে কারাকক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে আড়াই লাখ ডলার জামিনে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। দুই কন্যা সন্তানের জননী ৩৯ বছর বয়সী দেবযানী কন্স্যুলেটের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নারী বিষয়ক কনসাল জেনারেল।

প্রতিক্রিয়া:
  • ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী দেবযানীকে ‘কূটনৈতিক সুবিধা’ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বর্বর আচরণ’ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
  • সরকারের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘আচরণের’ প্রতিবাদস্বরূপ ভারত সফররত যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে সাক্ষাৎ দেননি।
  • রাহুল গান্ধী ও মোদির সঙ্গে ওই প্রতিনিধি দলের আলাদা বৈঠকের কর্মসূচি ছিল। কিন্তু তারা তা বাতিল করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্দেও তাদের সঙ্গে দেখা করেননি।
  • দেবযানীকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন ও লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারও যুক্তরাষ্ট্রর কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক বর্জন করেন।
  • ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি পাওয়েলকে ডেকে পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
  • দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাইরে থেকে নিরাপত্তা ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়েছে।
  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের জন্য বিমান বন্দরের পাস বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের জন্য আমদানি ছাড়পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
  • দূতাবাসের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা নিয়মিত কর দেন কি না, তা দেখতে ভিসাসহ তাদের বেতন ও ব্যাংক হিসাব সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য চেয়েছে ভারত।
  • যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটের সব কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র অবিলম্বে জমা দেয়ার নির্দেশসহ তাদের ও তাদের পরিবারের গৃহকর্মীরাসহ সব বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।
  • পুরো জাতি যুক্তরাষ্ট্রকে এই বার্তা পাঠাতে চাইছে যে, তাদের দেবযানী বিষয়ে তাদের পদক্ষেপ ভারত চুপচাপ মেনে নিচ্ছেনা।
ঘটনা ২...
‘ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের’ একনিষ্ঠ সমর্থক কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডে উদ্বেগ জানিয়ে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান পার্লামেন্টে শোক প্রস্তাব গ্রহণ। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা নির্দোষ ছিলেন বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে রাজনৈতিক নেতা ইমরান খান।

প্রতিক্রিয়া:
  • আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পাকিস্তান পার্লামেন্টের পদক্ষেপকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নাক গলানোর শামিল’ বিবেচনা করে তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার। ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
  • এবিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অধ্যাপক, লেখক, সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট ৩৬ ব্যক্তি। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, “যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি পরবর্তী ঘটনাগুলো আমাদের দারুণভাবে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।
  • একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং ৭১’এ নির্যাতিত নারীদের নেতৃত্বে পাকিস্তান দূতাবাস অভিমুখে মিছিল করছে গণজাগরণ মঞ্চ।
ঘটনা ...
মহান বিজয় দিবস সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধের অনুষ্ঠানে যাননি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতরা। রীতি অনুযায়ী এ দিনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পরপরই বিদেশী কূটনীতিকরাও সেখানে উপস্থিত থাকেন। আগেরদিন বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের অফিস থেকে এক বার্তায় জানানো হয় যে এবার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তারা যোগ দিচ্ছেন না। যোগ না দেবার কারণ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুটি বিষয় উল্লেখ করে।
প্রথমত: ১৬ ডিসেম্বর তাদের একটি সমন্বয় সভা আছে।
দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করছেন যেটি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তারা জমা দেবেন। একারনে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা ব্যস্ত থাকবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলা হয়, বাংলাদেশের বিজয় দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিদেশী কূটনীতিকদের যোগ না দেবার ঘটনা অতীতে কখনোই ঘটেনি। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ না দেয়া বাংলাদেশের মানুষের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং অবমাননাকর বলেও জানানো হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। কিন্তু গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার পরও সাভারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাননি ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিক থেকে সে সমন্বয় সভার কথা বলা হচ্ছে সেটি শুরু হয়েছিল সকাল সাড়ে দশটার পরে। কিন্তু স্মৃতিসৌধের আনুষ্ঠানিকতা সাধারণত সকাল সাতটার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

প্রতিক্রিয়া:
  • বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে অসন্তুষ্টি এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানো হয়।
  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অসন্তুষ্টি জানিযে বলা হয় “বাংলাদেশ চিন্তাই করতে পারছেনা যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানেযোগদান থেকে বিরত থাকতে পারে। বিজয় দিবস বাংলাদেশের মানুষের আবেগ এবং গর্বের বিষয়”
আমার শিক্ষা...
নকল করতে ওস্তাদ আমরা। জামা কাপড় থেকে শুরু করে গান খাবার কোথায় নেই নকল করার প্রবণতা। ভারতীয় পণ্য, পাকিস্তানের লন না হলে আমাদের ফ্যাশণ পূর্ণতা পায় না। প্রতি ঈদে ভারতের নায়িকাদের নামের পোশাক গায়ে না চড়ালে আমাদের ইজ্জত থাকে না। অথচ ভারত-পাকিস্তানের কাছ থেকে দেশপ্রেম শিখে উঠতে পারলাম না। দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দল কিভাবে এক হয়ে কাজ করে এটা শিখে উঠতে পারলাম না। এখোনো শেখা হয়নি কিভাবে দলমত নির্বিশেষে পাকিস্তান জিন্নাহ কে জাতির পিতা সম্বোধন করে। তখন পাকিস্তানের জাতির পিতা আর মুসলিম পাকিস্তানিদের জাতির পিতায় কোন কাটাকাটি লাগে না। আবার কংগ্রেস-বিজেপি এক মঞ্চে দাড়িয়ে যখন গান্ধির জন্ম মৃত্যু দিবস পালন করে তখন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বাধা হয়ে আসে না। জাতি হিসেবে আমরা অনেক গর্ব  করি। আমাদের জাতীয়তা বোধের ভারে দেশ রীতিমত ভারাক্রান্ত। অথচ আজও আমরা এক জাতি হয়ে উঠলাম না।

সকাল সকাল গানটা মাথায় এসেছিল।

“মায়ের দেয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই
দীন দুখিনী মা যে তোদের তার বেশী আর সাধ্য নাই।।
ঐ মোটা সুতোর সঙ্গে মায়ের অপার স্নেহ দেখতে পাই
আমরা এমনি পাষাণ,তাই ফেলেঐ, পরের দোরে ভিক্ষে চাই।।
ঐ দু:খী মায়ের ঘরে তোদের সবার প্রচুর অন্ন নাই,
তবু তাই বেচে কাঁচ, সাবান, মোজাকিনে করলি ঘর বোঝাই।।
আয়রে আমরা মায়ের নামে এই প্রতিজ্ঞা করব ভাই
পরের জিনিস কিনব না যদি-মায়ের ঘরের জিনিস পাই।”

বাঙালির প্রথম কাপড়কল 'বঙ্গলক্ষ্মী কটনমিল'-এর মোটা সুতোয় শাড়ি তৈরি উপলক্ষে এই গানটি লেখেনরজনীকান্ত সেন। পরে স্বদেশি আন্দোলনে বিদেশি পণ্য বর্জনের কর্মসূচি প্রচারে মূল ভূমিকা পালন করেছিল এই গান। আমাদের আসলে আবারো একটা স্বদেশী আন্দোলন দরকার। দিন শেষে আশার আলো পাকিস্তান দূতাবাস অভিমুখে গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল এবং অবস্থান। গণজাগরণ মঞ্চই করতে পারবে আরো একটা স্বদেশী আন্দোলন।

আমি লজ্জিত, ক্ষুব্ধ এবং আতংকিত

সমস্ত সুশীলতার মুখে ঝাড়ু মেরে বলছি হ্যাঁ আমি লজ্জিত!!! আমার দেশের বিরোধী দলীয় নেতা সরকার হটাতে একটা কর্মসূচি দিয়েছিলেন যার নাম তিনি নিজেই ভুলে গেছেন। অথচ সেই নাম জপতে জপতে তার দলে নেতা কর্মীরা শহীদ হওয়ার পথে। এজন্য পার হেড ১ হাজার টাকা বরাদ্দ করেও তাদের রাজপথে পাওয়া যায় না। ঠগ বাছতে গা উজাড় হওয়ার মতই ১৮ দলের জামায়াত বাছতে বিএনপি উজাড় হওয়ার পথে এসে দাড়িয়েছে। এই সাধারন কথাটি যে কোন সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বুঝতে পারলেও বিএনপির কোন অদৃশ্য মধু খাওয়া সমর্থকরা (আহাম্মক বিশেষণ সহযোগে পড়ুন) সেটা বোঝেনা নাকি মধুর লোভে না বোঝার ভান করে সেটা আমি বুঝি না। হয়তো আমি বড় আহাম্মক। আমি লজ্জিত আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী অপমানের জবাবে মার্কিন মুল্লুকের সাংবাদিককে ধমক দিলে সেটা হয় শিষ্ঠাচার বর্হিভূত কাজ। আর ভরা মজলিশে ক্যামেরা, বুম এবং সাংবাদিকদের সামনে অসভ্য ভাষায় ধমকা-ধমকি করলে সেটা তালি পায়। তিনি কার উদ্যেশে সেই ধমক দিয়েছেন সেটা আমি জানতে চাই না। আমি কেবল জানি কোন ভদ্রলোক পাবলিক প্লেসে এমন ভাষা ব্যবহার করে না। প্রটোকলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে এভাবে বলতে পারেন কিনা সে গবেষণায় আর নাইবা গেলাম।

আমি ক্ষুব্ধ তিনি আমার এলাকার সম্পর্কে কটুক্তি করেছেন। তিনি বিরোধীদলের নেতা হতে পারেন কিন্তু এই অধিকার আমি তাকে দেই না। আমি প্রশ্ন করি সুশীল নামক বিএনপির(পড়ুন জামায়াত! কারণ আমার মতে, বিএনপি নামক দলটি জামায়াতের রশি গলায় দিয়ে আত্মহত্যা করেছে) সেইসব জারজ সন্তানদের কাছে, যারা আদিবাসী না বলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বললে নাকি ওই জাতির অপমান হয় বলে গলা ফাটিয়েছেন বিভিন্ন সময় তারা আজ কোথায়? নাকি তারা আজও উপনিবেশিক ভৃত্য হয়ে আছেন, যাদের সাদা চামড়ার মুখ নিসৃত সব কথাই, অমৃত বাণী লাগে? আমি ক্ষুব্ধ কারন কেবল ব্যক্তিগত আক্রোশকে তিনি জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত করেছেন। তার কথায় আজ স্পষ্ট তিনি আওয়ামীলীগকে ঘৃণা করেন, ঘৃণা করেন শেখ হাসিনা তথা শেখ মুজিবের পরিবারকে। কিন্তু কেন? এই পরিবারটি দেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তাই? যে দলটির তিনি প্রধান সেই দলের প্রষ্ঠিাতার কোন লেখা বা কথায় আমি্ শেখ মুজিব বা তার পরিবারের প্রতিতো ঘৃণা দেখতে পাইনি!!! শেখ মুজিবের মৃত্যু কোন একজনের ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ নয়। তবে মহামাণ্য বিরোধী দলের নেতার এক ব্যক্তিগত ঘৃণার কারন কি?
আমি আতংকিত, গোপালগঞ্জের মানুষের প্রতি তার যে আক্রোশ তিনি আজ প্রকাশ করেছেন খোদা না করুক তিনি ক্ষমতায় গেলে গোপালগঞ্জ নামক জেলাটিকে তিনি উজাড় করে দেবেন বলে আমি আশংকা করছি। যদিও দীর্ঘ দিন বসবাস করায় আমার নাড়ির টান, মনের টান এবং স্থায়ী ঠিকানা সবই খুলনার কিন্ত শিকড়ের টান এখনো রয়ে গেছে। সেই্ টানেই হয়তো আজ লেখার তাগিদ অনুভব করছি। তিনি যেভাবে করে আল্লার গজব পড়বে বললেন, তাতে আমি সত্যি সত্যি আতংক বোধ করছি সেই গজবটা আল্লাহ না ফেললেও তিনি সুযোগ পেলে অবশ্যই ফেলবেন। এমন ঘৃণা বুকে নিয়ে একটা না আরো ৪/৫ টা ২১ আগষ্ট ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব।

যারা আমাকে আওয়ামীলীগের দালাল বলে গালি দিয়ে মনে মনে সুখ অনুভব করছেন অথবা বলছেন “আসছে নব্য আওয়ামীলীগার” তাদের বলছি, দান কিন্তু ঘর থেকেই শুরু হয়। নিজের দেশের মানুষ এবং জায়গা সম্পর্কে এই পরিমান ঘৃণা পোষণকারীকে আর যাই হোক দেশপ্রেমিক বলা চলে না। আর তারও চেয়ে বড়ো কথা এই দলটির নুন খাইনি, কখনো খাওয়ার সম্ভাবনাও নাই। তাই আওয়ামীলীগ নামক দলটির গুন গাইতেও বসিনি। আমি কেবল এই দলটির কাছে কৃতজ্ঞ তারা এই দেশের মাটিতে জন্ম নেয়া কিছু কুলাঙ্গারের বিচারের ব্যবস্থা করেছে। যদিও তার অবস্থা “কানা মামা”-র মত! তবু নাই মামার চেয়ে আমার কানা মামাই ভালো। আর বিএনপি নামক দলটিযে সব লজ্জা শরমের মাথা সেই কুলাঙ্গারদের বাঁচাতে মরিয়া সেটা আর নতুন করে প্রমাণের কিছুই নাই। বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতকে ছেড়ে এসে দেখতেন আপনার পাশে কত মানুষ থাকতো। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে আপনাকে কোন কষ্টই করতে হতো না। একাকী ঘরে গ্রেফতার আতংকে ভুগে জঙ্গি রাজনৈতিক গোষ্ঠীরমত ভিডিও বার্তাও পাঠাতে হতো না।

কিন্তু এখন এই আপনার অবস্থা দেখে আমার যা মনে হচ্ছে তা বলতে কবি গুণকে স্মরন করে বলতে হয় “ এতই যদি গ্রেফতার আতংক তবে কর্মসূচি দিয়েছিলে কেন”

Friday, October 25, 2013

স্বাধীনতা আমার ভালো লাগেনা”/ সুখপাঠ্য নয় তবে প্রয়োজনীয় পাঠ্য

সংগ্রহ পর্ব

এটিএন নিউজের নিউজ এবং কারেন্ট এ্যফেয়ার্স এডিটর প্রভাষ আমিনের লেখা বইয়ের নাম “স্বাধীনতা আমার ভালো লাগেনা” যদিও নামটি পড়ে কারোই বোঝার সাধ্য নেই এটা আসলে কিসের বই‍!!! নামের মধ্যেই দারুন নাটকীয়তা। তার চেয়েও বড় নাটকের জন্মদিয়ে বইটি আমার হস্তগত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে ২০১৩’র একুশে বই মেলায়, কিন্তু আমার তখন বইটি কেনা হয়ে ওঠেনি। এরপর প্রভাষ’দার নিয়মিত রিমাইন্ডারের ফলে একদিন সত্যি সত্যি বইটি কেনার জন্য হাজির হলাম আজিজ সুপার মার্কেটের বইয়ের দোকানে। কিন্তু হাজির হলেই তো আর হবেনা, সেখানে তো বইটি পেতে হবে! সব দোকান খুঁজে পেতে যখন প্রায় কনফিউজড (এরই মধ্যে আমি আরো দুটো বই কিনে ফেলেছি এবং নির্ধারিত বই কেনার টাকা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। তখন প্রভাষ’দা জানালেন তার বইটি আজিজে পাওয়া যাবেনা। একটি এজেন্সির নাম জানিয়ে বললেন, অনলাইনে অর্ডার দিলে তাঁরা পৌছে দেবে। কিন্তু আমার তক্ষুনি বইটি চাই চাই… কারন আমার আশংকা ছিল সেই বই আমার হাতে আসতে আসতে হয়তো আমি বাকি টাকা শেষ করে ফেলবো :P । শেষে দাদা জানালেন, হয়তো কাঁটাবনের কনকর্ড এম্পোরিয়ামে ঐতিহ্যের শোরুম আছে যেখানে বইটি পাওয়া যেতে পারে। এরপর অভিযান কাটাঁবনের কনকর্ড এম্পোরিয়ামে…ধান ভানতে শিবের গীত গাইছি! আপনারা হয়তো ভাবছেন, কি আছে সেই বইএ? কি জানতে পারবেন বইটি পড়ে? হ্যাঁ ক্যনভাসারদের মত বলতে পারি, এই বইটি পড়লে জানতে পারবেন… 

থাক, সে প্রসঙ্গে একটু পরেই আসি। আগে সেই বই কেনার কাহিনী শেষ করি। কনকর্ড এম্পোরিয়ামে পৌছে, এই দোকান সেই দোকান ঘুরে (বই এর দোকানে ঘুরতে খুব একটা খারাপ লাগেনা। দোকান পুরোনো হলে একটু হাচিঁ টাচি হয়, তবে এই মার্কেটের দোকান গুলো ঝা চকচকে) আমি যখন ঐতিহ্যের দরজায় পৌছালাম তখন দেখি দরজা বন্ধ  :( পাশের দোকানী বললেন, বন্ধনা, ওই দোকানের লোক নামাজ পড়তে গেছে। আমি আর কি করি, যে দোকানগুলো ঘোরা বাকি ছিল সেগুলো ঘুরে দেখতে লাগলাম। ঘুরতে ঘুরতে পেয়ে গেলাম পরিচিত এক ভাইকে, যার সঙ্গে অনেক বছর পর দেখা। অনেক অনেক গালগল্প শেষে আবার ফিরলাম ঐতিহ্যে এবং বইটিও খুঁজে পেলাম… :)।

যারা ভাবছেন যাক!!! শিবেরগীত অবশেষে শেষ হলো তাদের আশাহত করে জানাচ্ছি পিকচার আবভিবাকি মেরে দোস্ত ;) ।

বইতো পেলাম, কিন্তু বই’র দাম দেখেতো আমার চক্ষুস্থির ৩ শত ৭৫ টাকা মাত্র। কমিশন টমিশন কি কি সব বাদ দিয়ে, ২ শত ৮০ টাকা। আচ্ছা ঠিক আছে মারি তো গন্ডার লুটিতো ভান্ডার এই ভেবে মানি ব্যাগে হাত দিয়ে দেখি আমি ইতোপূর্বে আরো ৩ টি বই কিনে টাকা খরচ করে ফেলায়, কিছু টাকা কম পড়ে যাচ্ছে। আর বইটারও এমনই কপাল,সবসময় ব্যাগের বিভিন্ন চিপা চাপায় খুঁজলে কিছু না কিছু বের হয় অথচ সেদিন একটি ফুটো পয়সাও বেরোলোনা। কয়েকটি টাকার অভাবে বইখানি আবার শেলফ’এ রেখে ফিরে এলাম আর দোকানীকে কথা দিয়ে এলাম পর দিন অবশ্যই আমি বইটি সংগ্রহ করবো। এর মধ্যে আবার প্রভাষ’দা :( … জানালাম বিশেষ জটিলতার কারনে বইটি সংগ্রহ করা হয়নি এবং তাকেও একই আশ্বাস দিলাম পরদিন নিশ্চই আমি বইটি সংগ্রহ করবো। ভদ্রলোকের ১ জবান, নড়চড় নাই। সেজন্যই বইটি আজ আমার আশে পাশেই মহা আনন্দে গড়াগড়ি খায়।


অবশেষে আমি বইটি শেষ করেছি
বইটি কিনে বাসায় পৌছাতে যতটুকু সময় ঠিক ততটুকু সময় পরেই বইটি পড়া শুরু করেছিলাম... নাহ্ একটু ভুল হলো, পড়তে শুরু করার আগে বেশ খানিকটা সময় হাতে নিয়ে বইটি উল্টে পাল্টে গবেষণা করেছি। গবেষণা করার অনেক কারন ছিল। এটা সেই বই, যে বই আমি রীতিমত অনুসন্ধানী অভিযান চালিয়ে কিনেছি :D ... যেই বইটার জন্য কেবল বইয়ের লেখক নন আমার জানা চেনা আরো অনেকেই প্রচার চালিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম চ্যানেল আই’র নিউজ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খান। প্রথমে তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা খানিকটা আন্দাজ করেছি। কিন্তু বইটিতে লেখকের ভুমিকা পড়ে বুঝলাম আমার আন্দাজ ভুল নয়। মুখবন্ধে মুন্নী সাহার লেখাটি পড়ে বুঝতে পারলাম প্রভাষ’দাকে আসলে সবাই ভীষন পছন্দ করে। তিনি যে মিশুক, বন্ধুবৎসল এটা আগেই জানা ছিল। দারুন সেন্স অব হিউমারের অধিকারী এটাও আন্দাজ করেছিলাম। কিন্তু তা যে এতটা তা আগে বুঝতে পারিনি। পড়া শুরু করতেই বুঝলাম এই বইয়ে স্থান পাওয়া অনেক গুলো লেখা আমি আগেই পড়ে ফেলেছি। এখানে প্রশ্ন করাই যেতে পারে তাহলে… তাহলে শুধু শুধু আমি বইটি কেন কিনলাম!?! এই প্রশ্ন মনে আসাই স্বাভাবিক। এই উত্তরের আগে ছোট্ট করে বলে রাখি অটোগ্রাফ কাহিনীটা। বইটি কিনে আগে প্রভাস'দা কে একটা ধন্যবাদ দেই কারন তাঁর কল্যাণেই বইএর একটা চমৎকার মার্কেট খুঁজে পেলা। জবাবে তিনি জানান, "বেশতো রথ দেখা এবং কলা বেচা দুটোই হলো।" আমি উত্তর দেই " নাহ কলা কিনতে গিয়ে পুরো কলা বাগান পেয়ে গেলাম B-) ।" এ কথা কেন বললাম সেটা প্রভাষ'দার অটোগ্রাফ নোটটা দেখলেই বোঝা যাবে।

পড়তে পড়তে বুঝতে পারলাম এতো কাহিনী করে বইটি কিনে আমি একটুও ভুল করিনি। এই বইকে মোটেও কাঁচকলা বলে অবজ্ঞা করার অবকাশ নেই… বরং আমাদের প্রজন্মের জন্য অনেক প্রয়োজনীয় একটি বই। আজ থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে একজন তরুণ তার সময়টাকে কিভাবে দেখতো বিচার করতো সেটা যেমন বোঝা যায় তেমনি সেই সময়টা কেমন ছিল সেটাও জানতে পারা যায়। পড়তে পড়তে আমার চোখে গণমাধ্যম, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা, সচেতনতার তখন আর এখন ঠিক যতটা ধরা পড়েছে, তেমনটাই জেনেছি, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, সেই আন্দোলনে গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা, এবং এই বিষয়গুলো নিয়ে এক তরুণ গণমাধ্যম কর্মীর ভাবনা। আবার চিত্রপটের ভিন্নতায় সেই তরুণকে দেখতে পাই একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে মানসিক ভাবে যথেষ্ট পরিপক্ক অবস্থায় আমাদের বয়সের তার সময়কে বিচার বিশ্লেষন করতে।

কেবল সেই সময় এই সময়ই না, সমসাময়ীক বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষন খুঁজে পাই একজন সচেতন মানুষ এবং সমান্তরাল ভাবে একজন সাংবাদিকের চোখে। এসব ঘটনার খুটিনাটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি এমন আরো বিভিন্ন বিষয়কে তুলে এনেছেন যা কিনা একজন সংবাদকর্মীর জানা থাকা আবশ্যক। বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে নিজের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকতেই, প্রতিটি সংবাদকর্মীর পালন করা উচিত এই বিষয়গুলো।লেখক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে মিডিয়ার অসচেতনতার যেমন কড়া সমালোচনা করেছেন পাশাপাশি মিডিয়া সচেতন এবং শক্তিশালী হলে কি কি অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলা যায় সেটাও উদাহারণসহ ব্যাখ্যা করেছেন। তথ্য বহুল এই বইটি তাই কেবল পড়লেই হবেনা, সংগ্রহেও রাখতে হবে।

সাংবাদিকতা পেশাকে তীব্র ভাবে ভালোবেসে এক তরুণের সংবাদকর্মী হয়ে ওঠার অনেক ছোট ছোট গল্পের সঙ্গে সেই তরুণের শিশুকাল থেকে গড়ে ওঠা অনেক ভাবনা এবং জীবন দর্শনও বিভিন্ন অলিগলি আর চোরা পথে এসে মিলে গেছে লেখার মাঝে। এই বৈচিত্রর ফলে বইটি পড়তে যেমন ভালো লেগেছে, তেমনি জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোকে লেখক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনা থেকে আনন্দ নিংড়ে নেয়ার যে অসাধারণ বর্ণনা আছে তাতে কেবল লেখকের উদার দৃষ্টি ভঙ্গি প্রকাশ পায় তা নয়, বোঝা যায় তাঁর অসামান্য প্রাণ শক্তি।

তাই ব্যক্তিগত যায়গা থেকে আমি বলতে পারি বর্তমান সময়ে যেকোন অনাকাংঙ্খিত পরিস্থিতিতে প্রভাষ আমিনের একটি বিশ্লেষন ধর্মী লেখার জন্য আমি যেমন করে অপেক্ষায় থাকি, ঠিক সেভাবেই অপেক্ষা করছি পরের বইটির জন্য।


পুণশ্চ: বইটি পড়া শুরু করলেই বোঝা যাবে, বইটি পড়তে আমি এত সময় কেন নিয়েছি.... এটা গোগ্রাসে গেলার মত কোন বই না। এটা অনেক ধীরে সুস্থে পড়তে হবে। কারন এই বইয়ের অনেক কিছু মাথায় রাখতে হবে.... :)

কনিফউশান

ঈদে বা ছুটি ছাটায় যাতায়াত সময় বাচাঁতে আমি ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে ভেঙে ভেঙেই খুলনা যাই। এজন্য টিকিট নিয়ে খুব একটা তোড়জোড় থাকেনা। উদ্দেশ মানে যদি destination না ধরে plan ধরা হয় তবে আমার এই যাত্রাকে অনেকটাই নিরুদ্দেশ যাত্রা বলা যায়। এবারেও এর ব্যতিক্রম হয়নি! ৭ তারিখে অফিস করে তাড়াহুড়া করে পিঠে একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে দৌড় দিলাম বাসস্ট্যান্ডের দিকে। গুলিস্তান থেকে লাইন দিয়ে টিকিট কেটে লাইন দিয়ে বাসে উঠলাম। এখানে ভাগ্য খানিকটা িসুপ্রসন্ন ছিল, টিকিট লাইনের সামনের দিকে থাকা একজন, আমি একা দেখে দয়া পরবশত হয়ে আমার টিকেট খানি কেটে দিলেন। ভালোয় ভালোয় শুরু হলো যাত্রা। ছোটখাট কিছু বিড়ম্বনা পেরিয়ে আমি যখন মাওয়া ঘাটে পৌছালাম ঘড়ির কাঁটা তখন ৬ টা ছুঁই ছুঁই। ছুটতে ছুটতে লঞ্চ ঘাটে গিয়ে দেখি মানুষের উপচে পড়া ভীড়। সময় নষ্ট না করে ছুটলাম ফেরির দিকে। এখানেও কপাল ভালো ছুটতে ছুটতে উঠে পড়লাম সেই ফেরিটায় যেটা ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। মাওয়া রুটে সব সময় লঞ্চে নদী পার হই, এই প্রথম এই রুটে ফেরিতে পার হচ্ছি একা একা। তাই প্রথমেই মাথায় কাজ করছিল সুইটেবল একটা জায়গা খুঁজে বের করা যেখানে নিষ্চিন্ত হয়ে বসা যাবে এবং ইফতার করা যাবে। ফেরিতে উঠে তেমন একটা জায়গা পেয়েও গেলাম। আমার আশেপাশে ৬/৭ জোড়া দম্পতি তাদের আন্ডা বাচ্চাসহ ২০/২৫ জনের একটা দল ছিল। আর ছিল কিছু কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে, মনে হচ্ছিল হয়তো কাছাকাছি বাড়ি তাই সবাই একসঙ্গে মজা করতে করতে যাচ্ছে। জায়গা পেয়ে স্থির হয়ে বসে দেখলাম চারপাশে ইফতার নিয়ে বেশ একটা হুলস্থল ভাব... দম্পতিদের পুরুষগুলো ব্যস্ত সমস্ত হয়ে ইফতার কিনে আনছে। তখন আমার মনে পড়লো ইফতার কেনা হয়নি। ফেরিতে ওঠার তাড়ায় ইফতারি কেনার কথা মনে ছিল না, আর পথে কিছু কিনে নেবো ভেবে পানি আর কিছু ফল ছাড়া আর খাবার আর কিছুই সঙ্গে নেইনি। কিছুক্ষনের মধ্যেই ফেরি ছেড়ে দেবে তাই নামাও যাবে না, অগত্যা দম্পতিদের এক নারীকে ব্যাগের পাহারায় রেখে ফেরিতে কিছু পাওয়া যায় কিনা সেটা দেখতে গেলাম। পাটুরিয়া রুটের ফেরিতে ভালোমন্দ অনেক কিছু পাওয়া গেলেও মাওয়া রুটের ফেরির অবস্থা দেখলাম একেবারেই করুন... :( এক প্যাকেট বেঙ্গল বিস্কুট আর এক প্যাকেট প্রাণ মুড়ি কিনে বসার জায়গায় ফিরে দেখলাম জায়গা প্রায় বেদখল। কোন রকমে আবার জায়গা পূরুদ্ধার করে বসে চারপাশে মনোযোগ দিলাম।তখনই প্রথম মনে হলো ইশশশ সাথে আরেকজন থাকলে কত ভালো হত... আমার পাশে থাকা জুটিদের ছেলেগুলো আয়োজন করে ইফতার রেডি করছে, ছোলা, পেয়াঁজু, বেগুনী... আরো কতকি... তখনই মনে হলো কী এমন ক্ষতি হতো এমন কেউ সঙ্গে থাকলে :( প্রায় দুই ঘন্টা ফেরিতে দেখি একটু পর পর এটা সেটা কিনে আনে, আমি চুপচাপ দেখি... দেখি আর মন খারাপ করি... মন খারাপ করি আর ভাবি.... ভাবি আর ভাবি আমার কেন এমন লাগে??? আমার কেন মন খারাপ হয়? বিষয়টা একটুও পছন্দ হচ্ছেনা... কিন্তু তাও মন কেমন করছে স্ট্রেইঞ্জ!!! ওদিকে আমি আর ফেরি এগিয়ে চলে। চলতে চলতে ফেরি যখন তীরের কাছাকাছি চলে আসে ততক্ষনে ঘড়ির কাটা আটটার ঘর ছুঁই ছুঁই... ব্যাগ বোচকা নিয়ে আমি নামার জন্য রেডি। ঘাটের কাছাকাছি আসতেই লাফ দিয়ে নেমে পড়লাম। তখন আমার মাথায় কেবল একটা চিন্তা, খুলনা পর্যন্ত কি করে পৌছাবো। তবে এর মধ্যে একটা কথা ঠিকই মাথায় উঁকি দিয়ে ছিল, সঙ্গে কেউ থাকলে আমাকে নিশ্চই এভাবে লাফিয়ে ঝাপিয়ে নামতে দিত না... :P

লঞ্চ থেকে নেমে অনেকটা হাটার পথ। একদম সিনেমা নাটকে দেখা যায় যেমন, ঠিক তেমন ঘুট ঘুটে অন্ধকার পথ। রাস্তার দুই পাশে দোকান-টোকানও নাই... আলো বলতে কেবল কিছু সময় পর পর ফেরি থেকে নামা এবং বিপরীত থেকে আসা দু’একটা গাড়ি আর মোটর সাইকেলের আলো। সে আলো অন্ধকার কমানোর চেয়ে বরং বাড়িয়ে দিয়েই যায়। কে না জানে, অন্ধকারে আলো জ্বলে আবার নিভে গেলে অন্ধকার আরো বাড়ে। যাই হোক, রাস্তায় মাঝে যে দু’এক জন লোকের দেখা মিলছিলো তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে করে পথ চলছিলাম। তাদের কাছে জানতে চাইছিলাম খুলনায় যাবার বাস বা মাইক্রোবাস কোথায় পাবো তারা উত্তরের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সম্পুরক প্রশ্ন করছিলেন... “আপনি একা?” “আপনার সাথের লোক কই আম্মা?” “আপনার সাথে আর কেউ নাই?” এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে আমি যখন ঘাড় উচুঁ করে “নাহ আমার সঙ্গে কেউ নাই, আমি একা” বলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন টের পাচ্ছিলাম পেছন থেকে আমাকে অনুসরন করছে কয়েক জোড়া অবাক চোখ। নাহ্ আমি দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি সেই দৃষ্টিতে কোন লালা ঝরছিল না, রাগ, বিরক্তি বা অন্য কিছুই নয়। নারীর সহজাত যে অনুভূতি বোধ তাতেই আমি বুঝতে পারছিলাম, আমাকে অনুসরেন করা ওই চোখ গুলোয় ছিল বিস্ময় আর ছিল সমিহ আর শ্রদ্ধা। নিজের প্রতি, নিজের অবস্থানের প্রতি ভালোবাসা আরেকটু বেড়ে গেলো। পাশে কেউ না থাকলেও, অন্যকারো উপর নির্ভর না করেও এই জীবনটা বেশ ভালোভাবেই কাটিয়ে দেয়া যে সম্ভব, এবং এখনো সমাজের সব মানুষ যে পচেঁ যায়নি এটা অনুভব করতে পেরে বেশ ভালো লাগছিল :)

বাস পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। আমি পৌছানো মাত্রই পেয়ে গেলাম একটা বাস, কাঙ্খিত সিট ও পেয়ে গেলাম যদিও তা ছিল একদম পেছনে। সব গুছিয়ে বসলাম নিশ্চিন্ত মনে; কারন আর কোন ঝামেলা না হলে এই বাসটিই আমাকে পৌছে দেবে আমার কাঙ্খিত গন্তব্যে। নিশ্চিন্তে বসে, সারাদিন রোজা থাকার ক্লান্তিতে বেশ একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছিল। একে তো ভীষন ক্লান্ত তার উপর চলন্ত বাসের ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাসে মাথাকে আর সোজা রাখতে পাছিলাম না। তখন আবার মনে হল নাহ পাশে একটা কাধ থাকলে কি এমন ক্ষতি হতো? নিশ্চিন্তে অন্তত মাথাটা েরাখা যেত। সেই ঘুম ঘুম চোখেই তখন মাথায় আসে, আসলে আমরা কিসে তৃপ্ত... ওপর থেকে যতগুলো কথা লিখেছি সব কথাগুলো একে একে তখই মাথায় আসে। এই যে আমার রানীর মত জীবনটা এই জীবনটার প্রেমে আমি পড়তে চাইনা। বিগত সময়ে বুঝে গেছি সেটা আমার, আমার পরিবার সর্বপরি সমাজের জন্য ততটা গ্রহনযোগ্য এবং স্বাস্থ্যকর নয়। আবার এই জীবনটা হারিয়ে ফেলতেও আমি ভীষন ভয় পাই...

Monday, April 8, 2013

অসমাপ্ত গল্প

অনেক্ষন মেয়েটার কোন সাড়া শব্দ নেই। লম্বা সময়ের যাত্রায় রাতের বাসে বেশির ভাগ যাত্রীই ঘুমিয়ে কাটায়। মেয়েটাও ঘুমাচ্ছিল। সেই বাস ছাড়ার কিছু সময় পরেই ঘুমিয়ে পড়ে। কিছু সময় পরপর উঠে চারপাশে দেখে আবার ঘুমিয়ে পড়ছে। মেয়েটা একটু অদ্ভুত ধরনের। নাহ্ অদ্ভুত বলতে পোশাক আশাক না, চলাফেরাও না। কিন্তু... এই রাতের শেষ বাসে একা উঠেছে মেয়েটি। সঙ্গে একটা হাত ব্যাগ শুধু দেখা যাচ্ছে। কোন ভয় নেই অস্থিরতা নেই অস্বাভাবিক রকম শান্ত। হয়তো কিছুটা বিষন্ন। কেমন যেন একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রেখেছে সে চারপাশে। এত দীর্ঘ সময়ের যাত্রা অথচ একটা কথাও বিনিময় হয়নি তার সঙ্গে।

বাসটা যখন যাত্রা বিরতী নেয় তখন হঠাৎই খানিকটা চঞ্চলতা দেখা গেল মেয়েটার মধ্যে। বেশ তাড়াহুড়া করেই নেমে গেল। যখন ফিরলো, দেখে মনে হলো একটু যেন সাজগোজ করেছে। কপালের টিপটা এতক্ষন ছিল না। মনে হচ্ছে হালকা প্রসাধনী করে এসেছে, চোখে কাজলের রেখা। বেশ লাগছে দেখতে। তখন থেকে কেমন যেন একটা চঞ্চলতাও অনুভূত হচ্ছিল। তারপর আরো বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেল। ঘুম ঘুম চোখেই বুঝতে পাছিলাম গন্তব্য কাছাকাছি।

কিন্তু কোথায় যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছিল। কি যেন একটা বিষয় ঠিক মিলছিলনা। অনেকটা সময় পরে মনে হলো মেয়েটা যে একটু বেশিই চুপচাপ। যেন নিশ্বাসও চলছেনা। যদিও সারাটা পথ মেয়েটি একটা কথাও বলেনি তারপরেও এই নৈঃশব্দ যে একটু বেশি অস্বাভাবিক লাগলো। গন্তব্য এসে গেছে অথচ মেয়েটির মধ্যে যেন কোন চঞ্চলতা নেই। কি পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে। খুব খেয়াল করে শেষ বার মেয়েটির মুখটা দেখতে গিয়ে মনে হলো মেয়েটি মৃত।

হ্যা, মেয়েটি মারা গেছে। না বলাটা ঠিক হলোনা, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। তার হাতে মুঠি করা একটি কাগজ পাওয়া গেল। সেখানে তার বাসার ঠিকানা, একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেল। আর তার পায়ের কাছে দেখা গেল ওষুধের কিছু খোসা। বলা বাহুল্য সেগুলো খালি ছিল।

Friday, February 8, 2013

প্রজন্ম চত্তর থেকে অংকুরিত আমার যে স্বপ্ন...

আনা ফ্রাঙ্কের ডায়রী সম্পর্কে যেদিন জেনেছিলাম প্রথম যেকথাটা মনে হয়েছিল তাহলো, "৭১'এ জন্ম নিলে এমন একটা ডায়রী হয়তো আমারো থাকতো........" যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রায় নিয়ে দেশে যে অস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা কোন অংশেই যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। ৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের শুরু থেকে থাকতে পারিনি বলে কিছুটা আফসোস্ ছিল। একদিন পর অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে একটা কথাই মনে হলো, বাংলাদেশ আজ সত্যি জেগেছে। শুধু রাজনৈতিক সচেতনতা নয় এই দেশের যুব সমাজ সত্যি আজ জেগেছে.... কয়েকদিন আগেও যারা এই দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বার্তা বলতো, বাংলাদেশের খবর মানেই যাদের কাছে ছিল খারাপ খবর, তাদের আজ জানিয়ে দিতে চাই এই দেশের বেশীর ভাগ মানুষ এখনো নষ্ট হয়ে যায়নি তাই যারা "এই দেশটা নষ্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" বলে চিৎকার করে মুখে ফেনা তোলে তাদের বলতে চাই, এত সহজ নয় সবকিছু। বাঙালী সময় হলে ঠিকই জেগে উঠতে পারে।

গতকাল ৬ ফেব্রুয়ারী যখন আমি শাহবাগ যাই, তখন ঘড়ি সন্ধ্যা ৭ টার ঘর ছুই ছুই... শাহবাগে পা রেখে মনে হল একোথায় এসেছি আমি? রাতের ক্যাম্পাস আমার কাছে নতুন নয়, আড্ডা দিতে ভালোবাসি তাই রাতের ক্যাম্পাস আমার কাছে বেশ পরিচিত। ২০০৩ থেকেই ক্যাম্পাস আমার চেনা জানা। বৈশাখ, বসন্ত আর ফেব্রুয়ারি কিছুই আমার অচেনা নয়। কিন্তু গতকাল রাতে শাহবাগে দাড়িয়ে যে ছবি আমি দেখলাম তা আমার বিগত দিনে দেখা কোন একটি রাতের সঙ্গেও মেলেনা। এর আগে হয়তো কিছুটা ধারনা করতাম কিন্তু গতকাল অনুভব করলাম ৭১'এ কেন বাঙালি জেগেছিল কি মন্ত্রনা ছিল ৭ ই মার্চের সেই ভাষনে.....

অনেক সময় ঘুরলাম.... সিনিয়র, জুনিয়র, বন্ধু, সহকর্মী সবার সঙ্গে আবার অনেকটা সময় একদম একা.... ঘুরে ঘুরে দেখছি আর অবাক হচ্ছি এটাই তো আমার দেশ... আমার প্রিয় বাংলারতো এমনটাই হবার কথা ছিল। রাত ৮ টা ৯ টার সময় একা একটা মেয়ে ঘুরে ফিরবে অথচ কোথাও কোন টিজিং নাই, মনে কোন অস্বস্তি নাই........... শাহবাগকে মনে হচ্ছিল আমার ঘরের একটি কোন যে কোনে দাড়ালে আমার মন ভালো হয়ে যায়..... এই ছেলেরা, এই পুরুষেরা যদি হয় আমার দেশের পুরুষ তাহলে আমি বলতেই পারি আমার দেশের পুরুষ অনেক ভালো তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। এখানে প্রশ্ন জাগতেই পারে তাহলে তারা কারা? যারা নারী নির্যাতন করে, যারা ইভ টিজিং করে, যারা ধর্ষন করে অথবা যারা দূর্নীতি করে??? আমি বলবো তাদের একটা মাত্র পরিচয় আছে তারা অপরাধী। একজন অপরাধীর আর কোন পরিচয় থাকতে পারেনা। আজ যেভাবে মানুষ জেগেছে; আমার দেশের মানুষ জেগেছে, আমি বিশ্বাস করি, আমি স্বপ্ন দেখি এই সব অপরাধী একদিন খুব শিগগিরই একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বিশ্ব চিনবে এক অসাধারন দেশকে। সেই দিন এই বাংলা হবে সত্যিকারে সোনার বাংলা। সেদিন পৃথিবীর অন্য কোন কোন প্রান্তে এক মা তার সন্তানকে গল্প শোনাবে এক রূপকথার দেশের গল্প, যেখানে একের সুখে সবাই আনন্দে ভাসে... যেখানে একের দুঃখে সবাই কাদেঁ.... যেখানে সবাই লালন করে ভালোবাসার যৌথ খামার........।

Thursday, January 24, 2013

১৫০০ ক্ষুদেবার্তা এবং কিছু প্রশ্ন

received more then 1500 hundred text most of the boys said "meyeder jama-kaporape er main reason n psycho ra child rape kore... sathe onek gulu kutshit galipurno sms on 8920............... thanx to all tomra na janale jantamna j Evabeo chinta kora jai........ upset..........

গতকাল রাতে আমার এক বন্ধুর ফেসবুকের স্ট্যটাস ছিল এটা। বন্ধুটি একটি এফএম রেডিওর কথাবন্ধু। বেশ কিছু দিন ধরেই আমাদের দেশ এবং পার্শবর্তী দেশে ধর্ষন শব্দটি একটি বহুল উচ্চারিত শব্দে পরিনত হয়েছে এবং তার যথেষ্ট কারনও আছে। সেইসব কারন নিয়ে গবেষনার জন্য আমি এই লিখতে বসিনি। সেসব কারন পেপার, পত্রিকা, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন মিডিয়ার কল্যাণে সবাই জানেন। কিন্তু আমি অবাক হই তখন যখন দেখি সেই সব কারন গুলোর সমর্থনে তথাকথিত পুরুষ বিভিন্ন যুক্তি দাড় করান। (হ্যাঁ আমি তাদের তথাকথিত পুরুষ বলবো। কারন আমি বিশ্বাস করি পুরুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তারা মানুষ এবং তারা কোনভাবেই নারীর প্রতিপক্ষ নয় বরং পরিপূরক।) সেই কিছু পুরুষের নারীর পোষাক আশাক নিয়ে মন্তব্য করা অবশ্য নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তারা জানায় আজকাল নারীর খোলামেলা পোশাকের জন্য সমাজে অনাচার (অনাচার বলছি কারন কেবল ধর্ষন নয়, ইভটিজিং, যৌনহয়রানীসহ নারীর প্রতি হওয়া সব ধরনের অন্যায় আচরনকে অন্তর্ভূক্ত করছি) বেড়ে গেছে।

এখানে আমার প্রশ্ন বিষয়টা কি আসলেই তাই? তাহলে সৃষ্টির সেরা হিসেবে সেই মানুষের অবস্থান থাকলো কোথায়? কে কোন পোশাক পরবে কে কোনটা পরবেনা এটা পুরোপুরি একজনের নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়। কারো সংক্ষিপ্ত পোশাক দেখে কোন পুরুষের মনে কামনা জেগে উঠলে তাতে ওই মেয়ের কি করার থাকতে পারে? একজন মানুষ নিশ্চই খাদ্য বস্তু না যে দোকানে লোভনীয় করে সাজানো দেখলেই খেতে মন চাইবে। যদি আপনার তাই মনে হয় তবে আপনাকে লোভী বলা ছাড়া আর কোন উপায়নেই। নারীর পোশাক নিয়ে যারা কথা বলেন তারা কী কখনো ভেবে দেখেছেন এতে করে আপনার লোভী চেহারাটা সবার সামনে খুলে যাচ্ছে।

এর পরেও যারা আসবেন বিভিন্ন যুক্তির ফুল ঝুরী ছড়াতে তাদের বলছি, আচ্ছা ধরেন এক মুহূর্তের জন্য মেনেই নিলাম নারীর পোশাকই সব নষ্টের গোড়া.... সেক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুরা যারা এখনো মেয়ে বা নারী হয়ে ওঠেনি তাদের প্রতি লোভ জাগার কারনের কোন ব্যাখ্যা কী দেয়া সম্ভব? তারা তো নিতান্তই শিশু।

আমি মনোরোগ বিশারদ নই, আমার পড়াশুনার বিষয়ও মনোবিজ্ঞান ছিলনা। কিন্তু নিজের চারপাশের মানুষদের আচরন এবং মানসিকতা পর্যবেক্ষণ করে আমার মনে হয়েছে এই সমস্যার মূল আসলে আমাদের পরিবার গুলো। শিশুদের প্রথম শিক্ষা অনুকরণ এর পর আসে শিক্ষণ। এই দু'টি ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে মায়ের। ক্ষেত্র বিশেষে বাবার। তবে মা কেবল মাত্র মাই পারে একটি শিশুর মনো জগতে বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে। পৃথিবীকে মানুষকে ঘটনাকে ইতিবাচক ভাবে দেখার চোখ একমাত্র মায়ের সাহায্যেই পাওয়া সম্ভব। কোন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এই শিক্ষা যে দিতে পারেনা তার প্রমান খুঁজতে বেশিদূরে যেতে হবে না। যারা মেয়েদের পোশাক নিয়ে এমন মন্তব্য করে তাদের মধ্যেই ডিগ্রীধারী (আসলে মুখোশধারী) অনেককেই পাওয়া যাবে। এর জন্য ঢালাও ভাবে সব পুরুষকেও আমি দোষ দেই না। আমার জীবনের একটা ঘটনা বলি, আমার স্কুল ছিল গার্লস স্কুল কিন্তু কলেজে এসে আমার কোএডুকেশনে পড়ার সুযোগ হয়। একদিন কোন একটি প্রয়োজনে আমার এক বান্ধুর কলেজে যাবার দরকার পড়ে যে কিনা মহিলা কলেজে পড়তো। ওর সঙ্গে আমি যখন ওদের ক্যন্টিনে গিয়ে বসি তখন দেখতে পাই কিছু মেয়ে ক্যন্টিনের টেবিলের ওপর বসে হাতে নেইল পলিশ লাগাচ্ছে। আমি কো এডুকেশন কলেজে পড়ি শুনে তারা প্রথমেই আমার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলে, " তোমাদের খুব ঝামেলা হয় না?" আমি যখন অবাক হয়ে কি সমস্যা সেটা জানতে চাই ওরা আমাকে মেয়েদের কিছু বিশেষ পোশাকের নাম উল্লেখ করে বলে "এই ধরো সবার সামনে যদি ওসব বেরিয়ে যায়.......ছেলেরা খেপায় না?......" :-/ :-/ :-/ আমার তখন হতভম্ভ হবার পালা আর আমার সেই বন্ধুটি লজ্জিত। আমি বলছিনা কোএডুকেশনে পড়লে শিক্ষা ভালো হবে, আমি কেবল গল্পটা এজন্য উল্লেখ করলাম যে, ওই মেয়েটা যখন জীবনে মা হবে তার ছেলেটিকে সে কি শিক্ষা দিতে পাবে? অথবা মেয়েটিকে? নিজের অজান্তেই সে তার ছেলেকে টিজ করতে সেখাবে আর মেয়েকে সেখাবে মেয়ে তোমার জন্ম হয়েছে অপমানিত হয়ে সহ্য করার জন্য। এমন অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অনেক আছে।

তার পরেও আশায় মন বাধি কোন একদিন এই অবস্থার পরিবর্তন নিশ্চই হবে।