Showing posts with label পুর্ণেন্দু পত্রী. Show all posts
Showing posts with label পুর্ণেন্দু পত্রী. Show all posts

Monday, April 22, 2013

সেই গল্পটা --- পূর্ণেন্দু পত্রী

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
শোনো।
পাহাড়টা, আগেই বলেছি
ভালোবেসেছিল মেঘকে
আর মেঘ
কী ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে
বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের
ছোকরা
সে তো আগেই শুনেছো।
সেদিন ছিল পাহাড়টার জন্মদিন।
পাহাড় মেঘেকে বললে
আজ তুমি লাল শাড়ি পরে আসবে।
মেঘ পাহাড়কে বললে
আজ তোমাকে স্মান করিয়ে দেবো চন্দন
জলে।
ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম
নদী
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ।
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের
আলিঙ্গনেরআগুনে
পাহাড় ছিল মেঘের ঢেউ-জলে।
হঠাৎ,
আকাশ জুড়ে বেজে উঠল ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাইয়ের
ভঙ্গিতে ছুটে এল
এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে
ওঠ্ ছুড়ি! তোর বিয়ে।
এখনো শেষ হয়নি গল্পটা।
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেল
ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিনই
ভুলতে পারল না।
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতো পারো
পাহাড়টার হাড় পাঁজর,
ভিতরে থৈ থৈ করছে
শত ঝর্ণার জল।

Friday, April 12, 2013

কথোপকথন ২৩ — পুর্ণেন্দু পত্রী

কাল তোমাকে ভেবেছি বহুবার
কালকে ছিল আমার জন্মদিন।
পরেছিলাম তোমারই দেওয়া হার।

আমার হার কি আমার চেয়েও বড়?
বালিকে তুমি বিলোলে আলিঙ্গন
সমুদ্রকে দিলে না কুটো খড়ও।

আমার কী দোষ? ডেকেছি বহুবার
কিন্তু তোমার এমন টেলিফোন
ঘাটের মড়া, নেইকো কোনো সাড়।

বাতাস ছিল, বাতাসে ছিল পাখি
আকাশ ছিল, আকাশে ছিল চাঁদ
তাদের বললে, খবর দিত নাকি?

আজ্ঞে মশাই, বলেছিলাম তাও।
তারা বললে, ধুঁকছি লোডশেডিং-এ,
নড়তে-চড়তে পারবো না এক পাও।

Monday, April 8, 2013

কথোপকথন ৩০ --- পুর্ণেন্দু পত্রী

তুমি আমার সর্বনাশ করেছ শুভঙ্কর ।
কিচ্ছু ভাল লাগে না আমার ।কিচ্ছু না ।
জলন্ত উনুনে ভিজা কয়লার ধোঁয়া
আর শ্বাস কষ্ট ঘিরে ফেলেছে আমার দশদিগন্ত।
এখন বৃষ্টি নামলেই কানে আসে নদীর পাড় ভাঙ্গার অকল্যান
শব্দ
এখন জোত্‍স্না ফুটলেই দেখতে পাই
অন্ধকার শশ্মানযাত্রীর মতো ছুটে চলেছে মৃতদেহের খোঁজে।
কিচ্ছু ভাল লাগে না আমার।কিচ্ছু না।
আগে আয়নার সামনে ঘন্টার পর
ঘন্টা সাজগোজ
পাউডারে, সাবানে, সেন্টে, সুরমায়
নিজেকে যেন কেচে ফর্সা করে তোলার মত সুখ।
এখন প্রতিবিম্বের দিকে তাকালেই
সমস্ত মুখ ভরে যায় গোল মরিচের মত ব্রণে, বিস্বাদে বিপন্নতায়।
এখন সমস্ত স্বপ্নই যেন বিকট মুখোশের হাসাহাসি
দুঃস্বপ্নকে পার হওয়ার সমস্ত
সাঁকো ভেঙ্গে চুরমার।
কিচ্ছু ভাল লাগে না আমার। কিচ্ছু না।

—তুমিও কি আমার সর্বনাশ করনি নন্দিনী?
আগে গোল মরিচের মত এতটুকু ছিলাম আমি।
আমার এক ফোঁটা খাঁচাকে
তুমিই করে দিয়েছ লম্বা দালান।
আগাছার জমিতে বুনে দিয়েছ জলন্ত উদ্ভিদের দিকচিহ্নহীন
বিছানা।
এখন ঘরে টাঙ্গানোর জন্য একটা গোটা আকাশ না পেলে
আমার ভাল লাগে না।
এখন হাঁটা-চলার সময় মাথায় রাজছত্র না ধরলে
আমার ভাল লাগে না।
পৃথিবীর মাপের চেয়ে অনেক বড় করে দিয়েছ আমার লাল বেলুন।
গোল মরিচের মত এই একরত্তি পৃথিবীকে
আর ভালো লাগে না আমার।