Tuesday, April 30, 2013

অমলকান্তি --- নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

অমলকান্তি আমার বন্ধু,
ইস্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম
রোজ দেরি করে ক্লাসে আসতো, পড়া পারত না,
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে
এমন অবাক হয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতো যে,
দেখে ভারী কষ্ট হত আমাদের

আমরা কেউ মাষ্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ...

অপেক্ষা --- দিব্যেন্দু পালিত

অন্যমনে একদিন ভালোবাসা কড়া নেড়েযাবে;
অপেক্ষায় থেকো
পদশব্দে মনে হবে বাতাসের নিষ্ঠুরশাসানি
বহুদূরে শাণ দিচ্ছে ভয়ানক কৌতুকের থেকে
তোমার দু’পাশে রাস্তা, সাজানো হর্ম্যের
অলিন্দ থম্কে আছে, চারিদিকে আলোর চাতুরি
স্বপ্নের ভিতর কিংবা মৃত্যুর ভিতর কিংবা

Wednesday, April 24, 2013

এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না — মহাদেব সাহা

এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না
একবার তোমাকে দেখতে পাবো
এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে-
বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার
হবো ভরা দামোদর...
কয়েক হাজার বার পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল;

তোমাকে একটিবার

Tuesday, April 23, 2013

বাউলা বাতাস --- অতল জলের গান


বাউলা বাতাস আউলা চুলে লাগলো দোলা
গান ধরেছে পথের ধারে আত্মভোলা সে গানে সুর থাকেনা লয় থাকেনা
এমন সে গান—
তবু সে মন কেড়ে নেয়, প্রাণ কেড়ে নেয়
এমন সে টান
পারেনা সবাই হতে বিন্দুধারী
পুরুষের উৎস জানি শুধুই নারী দেহ আর দেহের সুরে মনের ভাষায়
আপনাকে খুঁজে বেড়াই ভালোবাসায়
নিজেতেই লীন হয়ে যাই দিন সারাটা
সাথী সেই সংগিনী আর দোতারাটা আঁধারে মগ্ন প্রেমে চাঁদের সাথে
পেয়েছি তোমার দেখা শুক্লারাতে
Song Writer: Shawon Akond
Composer: Rahul Anand

লিলুয়া বাতাস --- অতল জলের গান


লিলুয়া বাতাস, নিরাগ পানি, আয়েসি বৈঠার ছুপ শালুক-সাদায় ঘাসফড়িংটা উড়তে উড়তে চুপ কালো পানকৌড়ি ভাসতে ভাসতে ডুব॥

ভাসতে ভাসতে সবুজ বিলের কুচলা কালো জলে,
সাদা ফুলের হলুদ রেণু মেঘ পাখিদের দলে ধূসর ঘুঘুর সাদা ফোটায় একলা দুপুর কাঁদে,
ঝলমলিয়ে রোদের ছায়া পড়লো রঙের ফাঁদে॥

ধানের ক্ষেতে সবুজ বাতাস, ধূসর-কালো কাক
নীল আকাশে দুহাত মেলে শঙ্খচিলের ডাক রংধনু রঙে খলসে-পুটির ঝাঁক॥

Song Writer: Rahul Anand
Composer: Rahul Anand

কাগজের নৌকা --- অতল জলের গান


কাগজের নৌকা কেউ বানিয়েছে তা
চুপ চাপ ভাসিয়েছে জলে রেলগাড়ি ঝমাঝম, কেউ বেশি কেউ কম
নিজস্ব কথাটুকু বলে
সন্ধ্যের মুখোমুখি কার মুখ দেয় উঁকি
কার কথা আজো বাজে কানে!
কেনো এতো খোঁজাখুঁজি, এতোদিন পরে বুঝি
জননী শব্দটার মানে
সেই ঘর সেই বাড়ি,
দুষ্টুমি বাড়াবাড়ি—
তাঁর কথা কখনো শুনিনি
অবাধ্য ছেলেটাকে স্মৃতি কেনো পিছু ডাকে
ভালোবাসা মানেই জননী
পাগলা ঘোড়া ছুটে ছুটে যায় দিনটা কাটে শুধু ব্যাস্ততায়
রাতটা কাটে গানে গানে—
রাতটা কাটুক গানে পানে.....

Song Writer: Shawon Akond
Composer:...

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর --- অতল জলের গান


বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান,
বানের জলে ভাসলো পুকুর ভাসলো আমার গান বন্ধু আইসোরে...
কোলেতে বসতে দেবো, মুখে দেবো পান
ইষ্টি-কুটুম বৃষ্টি এলো সৃষ্টি হলো সুর,
ভালোবাসায় ভাসলো খেয়া— ঐতো পাখিপুর ইচ্ছে হলে এখন তুমি নাইতে পারো,
বৃষ্টিজলে নূপুর পড়ে গাইতে পারো,
এখানে সবাই স্বাধীন বাঁধনহারা,
এখানে সবই নতুন— অন্যরকম অন্যধারা টিবি ডাপ টিবি ডাপ টিবি ডিবি ডাপ

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান,
বানের জলে ভাসলো পুকুর ভাসলো আমার গান বন্ধু আইসোরে...
কোলেতে বসতে দেবো, মুখে দেবো পান বৃষ্টি পড়ে— টাপুর...

দূরে থাকা মেঘ তুই দূরে দূরে থাক --- অতল জলের গান


দূরে থাকা মেঘ তুই দূরে দূরে থাক
যতটুকু পারা যায় সামলিয়ে রাখ

মন মন সে তো পাল ছেড়া তরী
যতদূরই যাক সে সবটুকু তোরই সবটুকু কতটুকু একরত্তির
সবকথা শেষ হলে এক সত্যির মুখোমুখি হতে হয় নির্ঘুম রাতে,
তুমি আমি সব্বাই সকলের হাতে তারপরও ওরে মেঘ দূরে দূরে থাক
ফাগুনের হাওয়া এলে সামলিয়ে রাখ
মন মন সে তো কত কথা বলে
তার কথা শুনে কেউ ঝাঁপ দেয় জলে উড়ে এসে জুড়ে বসে এক সুখ পাখি
সুখ পাখি গান গায় কেউ শোনো তা কি!
কার গান কোন গান তুমি কিছু জানো?
জানো যদি তবে কেন এত কাছে টানো তারপরও ওরে মেঘ দূরে দূরে থাক
ফাগুনের...

আমি একটা পাতার ছবি আঁকি --- অতল জলের গান


আমি একটা পাতার ছবি আঁকি
পাতাটা গাছ হয়ে যায় মাথা ভরা সবুজ কচি পাতা
গাছটাকে ছাতা মনে হয় আরিরে আরি রাং
ছুরিরে আরি ছুরি বাং
আমি একটা ফুলের ছবি আঁকি
ভ্রমর উড়ে আসে তায় ফুলে বসে ভ্রমর
ফুলের মধু চুষে খায় আরিরে আরি রাং
ছুরিরে আরি ছুরি বাং
আমি ঝড় আঁকতে পারিনা
তবু ঝড় বয়ে যায়...
আমার উঠানে আমার আঙিনায় হতভম্ব আর্টিসম্যান কিছুই বোঝেনা...
হতভম্ব আর্টিসম্যান কিছুই জানেনা...
হতভম্ব আর্টিসম্যান আঁকতে পারেনা...
আরিরে আরি রাং
ছুরিরে আরি ছুরি বাং


Song Writer: Kanak and Rahul
Composer:...

ও ঝরা পাতা --- অতল জলের গান

ও ঝরা পাতা ও ঝরা পাতাগো
তোমার সাথে আমার রাত পোহানো কথাগো
তোমার সাথে আমার দিন কাটানো কথা

হলুদ পাতার বুকে দিলো
সবুজ পাতা চুম্
শুকনো পাতা নূপুর পায়ে
রুমঝুম… রুমঝুম… রুমঝুম

Monday, April 22, 2013

আমি বৃষ্টি দেখেছি --- অঞ্জন দত্ত


আমি বৃষ্টি দেখেছি
বৃষ্টির ছবি একেছি
আমি রোদে পুড়ে
ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি

আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার
খেলা থামেনি
শুধু তুমি চলে যাবে
আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি

চারটে দেয়াল মানেই নয়তো ঘর
নিজের ঘরেও অনেক মানুষ পর
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর

আমি অনেক ভেঙ্গেচুরেও
আবার শুরু করেছি
আবার পাওয়ার আশায়
ঘুরে মরেছি
আমি অনেক হেরে গিয়েও
হারটা স্বীকার করিনি
শুধু তোমায় হারাবো
আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি...

বৃষ্টির গান --- ফররুখ আহমদ

বৃষ্টি এলো কাশবনে
জাগলো সাড়া ঘাসবনে
বকের সারি কোথায় রে
লুকিয়ে গেলো বাঁশবনে

নদীতে নাই খেয়া যে
ডাকলো দূরে দেয়া যে
কোন সে বনের আড়ালে
ফুটলো আবার কেয়া যে

সেই গল্পটা --- পূর্ণেন্দু পত্রী

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি
শোনো
পাহাড়টা, আগেই বলেছি
ভালোবেসেছিল মেঘকে

বনলতা সেন --- জীবনানন্দ দাস

হাজার বছর ধরে আমি পথ
হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল-সমুদ্র থেকে নিশীথের

Friday, April 19, 2013

সফদার ডাক্তার --- হোসনে আরা

সফদার ডাক্তার মাথাভরা টাক তার
খিদে পেলে পানি খায় চিবিয়ে,
চেয়ারেতে রাতদিন বসে গোণে দুই-তিন
পড়ে বই আলোটারে নিভিয়ে

ইয়া বড় গোঁফ তার, নাই যার জুড়িদার
শুলে তার ভুঁড়ি ঠেকে আকাশে,
নুন দিয়ে খায় পান, সারাক্ষণ গায় গান

কষ্ট নেবে কষ্ট --- হেলাল হাফিজ

কষ্ট নেবে কষ্ট
হরেক রকম কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট

লাল কষ্ট নীল কষ্ট কাঁচা হলুদ রঙের কষ্ট
পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট,
আলোর মাঝে কালোর কষ্ট
মাল্টি কালার কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট

পাহাড় চূড়ায় --- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অনেকদিন থেকেই
আমার একটা পাহাড় কেনার শখ
কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না
যদি তার দেখা পেতাম, দামের জন্য আটকাতো না
আমার নিজস্ব একটা নদী আছে,
সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে
কে না জানে পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশি
পাহাড় স্থানু, নদী বহমান

রানার --- সুকান্ত ভট্টাচার্য

রানার ছুটেছে তাই ঝুম ঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,
রানার চলেছে, রানার !
রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার
দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার-
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার

রানার ! রানার !

এক গায়েঁ --- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমরা দু'জন একটি গাঁয়ে থাকি
সে আমাদের একটিমাত্র সুখ
তাদের গাছে গায়যে দোয়েল পাখি
তাহার গানে আমার নাচে বুক
তাহার দু'টি পালন করা ভেড়া
চরে বেড়ায় মোদের বটমূলে,
যদি ভাঙ্গে আমার ক্ষেতের বেড়া
কোলের পরে নেই তাহারে তুলে

কৃষ্ণকলি --- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক
মেঘলাদিনে দেখেছিলেম মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ
ঘোমটা মাথায় ছিলনা তার মোটে, মুক্তবেণী পিঠের'পরে লোটে
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ

ঘন মেঘে আঁধার হল দেখে ডাকতেছিল শ্যামল দুটি গাই,
শ্যামা মেয়ে ব্যস্ত ব্যাকুল পদে...

সোনার তরী ---- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান-কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা--
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা॥


একখানি...

আমাদের গ্রাম --- বন্দে আলী মিঞা

আমাদের ছোটো গাঁয়ে ছোটো ছোটো ঘর
থাকি সেথা সবে মিলে কেহ নাহি পর
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই
একসাথে খেলি আর পাঠশালে যাই
হিংসা ও মারামারি কভু নাহি করি,
পিতা-মাতা গুরুজনে সদা মোরা ডরি

আমাদের ছোটো গ্রামে মায়ের সমান,

বনলতা সেন --- জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি ; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি ; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত পাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন

তোমার বুকের থেকে একদিন চলে যাবে --- জীবনানন্দ দাশ

তোমার বুকের থেকে একদিন চলে যাবে তোমার সন্তান
বাংলার বুক ছেড়ে চলে যাবে; যে ইঙ্গিতে নক্ষত্রও ঝরে,
আকাশের নীলাভ নরম বুক ছেড়ে দিয়ে হিমের ভিতরে
ডুবে যায়, – কুয়াশায় ঝ’রে পড়ে দিকে-দিকে রপশালী ধান
একদিন; – হয়তো বা নিমপেঁচা অন্ধকারে গা’বে তার গান,
আমারে কুড়ায়ে নেবে মেঠো ইঁদুরের মতো মরণের ঘরে –

আট বছর আগে একদিন --- জীবনানন্দ দাশ

শোনা গেল লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে - ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হল তার সাধ
বধু শূয়েছিল পাশে, শিশুটিও ছিল;
পেম ছিল, আশা ছিল - জোছনায় - তবু সে দেখিল
কোন ভূত? ঘুম কেন ভেংগে গেল তার?

নদী --- জীবনানন্দ দাশ

রাইসর্ষের খেত সকালে উজ্জ্বল হলো- দুপুরে বিবর্ণ হ'য়ে গেল
তারি পাশে নদী;

নদী, তুমি কোন কথা কও?
অশথের ডালাপালা তোমার বুকের 'পরে পড়েছে যে,
জামের ছায়ায় তুমি নীল হ'লে.
আরো দুরে চলে যাই
সেই শব্দ সেই শব্দ পিছে-পিছে আসে;

কুড়ি বছর পরে --- জীবনানন্দ দাশ

আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি
আবার বছর কুড়ি পরে-
হয়তো ধানের ছড়ার পাশে-
কার্তিকের মাসে-
তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে – তখন হলুদ নদী
নরম নরম হয় শর কাশ হোগলায়- মাঠের ভিতরে!
অথবা নাইকো ধান ক্ষেতে আর,
ব্যস্ততা...

নিমন্ত্রণ --- জসীমউদ্দীন

তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমদের ছোট গাঁয়
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভায়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়

প্রতিদান --- জসীমউদ্দীন

আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর
যে মোরে করিল পথের বিবাগী;
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি;
দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হয়েছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর
আমার একুল ভাঙ্গিয়াছে যেবা আমি তার কুল বাধি,

রাখাল ছেলে --- জসীমউদ্দীন

'রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! বারেক ফিরে চাও,
বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?'

'ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা গাঁ
কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা;
সেথায় আছে ছোট্ট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া,
সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা

মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয় --- জয় গোস্বামী

বেণীমাধব, বেণীমাধব, তোমার বাড়ি যাব
বেণীমাধব তুমি কি আর আমার কথা ভাব?
বেণীমাধব মোহন বাঁশি তমাল তরু মূলে
বাজিয়েছিলে, আমি তখন মালতী স্কুলে
ডেস্কে...

বুঝিবে সে কিসে -- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

 চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে
যতদিন ভবে, না হবে না হবে,

মানুষ --- কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান্‌
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি
‘পূজারী দুয়ার খোলো,

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে --- কাজী নজরুল ইসলাম

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে–
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে

আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে -
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার – ভাঙা কল্লোলে
আসল হাসি, আসল কাঁদন
মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,

কাণ্ডারী হুশিয়ার! --- কাজী নজরুল ইসলাম


দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!!

খেলিছ এ বিশ্বলয়ে --- কাজী নজরুল ইসলাম

খেলিছ এ বিশ্বলয়ে
বিরাট ও শিশু আনমনে
প্রলয় সৃষ্টি তব পুতুল খেলা
নিরজনে প্রভু নিরজনে
খেলিছ এ বিশ্বলয়ে
বিরাট ও শিশু আনমনে
শূণ্যে মহা আকাশে
তুমি মগ্ন লীলা বিলাসে
ভাঙ্গিছ গড়িছ নীতি ক্ষণে ক্ষণে